জীবন উপমা
মিনতি বালা
একদিন কুয়াশার ফানুস হয়ে
ভেসে যাবে বিস্মৃতির অন্তরালে,
পূর্বদিগন্তের ঊষার কিরণ
তখনও থাকবে নিরুত্তাপ দীপালী।
শুভ্র আকাশে ভেসে থাকা মেঘের পালঙ্কে
সোনার বক্সে থাকবে ইতিকথা,
ভুবনডাঙার সজনে রঙের তাঁতের শাড়ি
আর লাল চুড়ির অসমাপ্ত স্বপ্ন!
পড়ে থাকবে নিথর দেহ
কোনো চিকিৎসালয়ের পরিত্যক্ত বিছানায়।
পথের ধুলিকণায় উড়বে
ঘূর্ণিঝড়ে অনীহায় মনে পড়া সেই নাম!
সব শেষ হয় না—
শেষ হতে নেই; অবশিষ্টই পৃথিবীর আদি স্বভাব,
আয়নায় যেমন অবয়ব ধরা পড়ে,
তেমন নিঃশব্দের কিছু কথা
জমাট থাকে বুকে।
পৃথক বলে কিছু নেই;
তবুও একটু ভিন্নতা হতে পারে জীবনের অনুভব—
অমিল জেনেও সবচেয়ে সুখের।
দানের মহিমা জ্যোতিময় হয়ে
অঞ্জনের কাজলে লেপ্টে থাকে নজর রোধে।
এই নীরবতায় সুখ না দুঃখ—
তার মূল্যরোধে স্রোতের গতি তীব্রময়,
জীবন-মানচিত্রের রেখা সামলে
বেসামালে হিসেব-চড়া হিসাবি,
আনাড়ি খাতা ভর্তি আঁকিঝুঁকি।
ফানুসদের দেহ নেই,
হাড় নেই, মাংসপেশি নেই, রক্তও—
আছে হৃদপিণ্ডের টিপটিপ উপস্থিতি,
ভীরু চলাচলের ব্যর্থ উপমা






