রাজবাড়ী ভয়েস ডট কম : রাজবাড়ী জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর আরাফাত পাটোয়ারী (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির আগে থেকেই হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র ছিল। এ কারণে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীর ন্যাশনাল কেয়ার হেলথ জেনারেল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। আরাফাতের বাবা আলী পাটোয়ারী দুবাইপ্রবাসী। তাঁদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মুকুন্দিয়া গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আরাফাত ছিল বড়। তবে সে মায়ের সঙ্গে সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে নানা বাড়িতে থাকত।
আরাফাতের মা মরিয়ম আক্তার সুরভী জানান, দুই দিন ধরে জ্বর ও পেটে ব্যথা থাকায় গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ছেলেকে রাজবাড়ী শহরের লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে এবং অবস্থা ভালো নয়। দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে রাতেই অপারেশন করা হয়। রাত ১২টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর থেকেই আরাফাতের আর জ্ঞান ফেরেনি।
তিনি আরও জানান, অস্ত্রোপচারের পর ছেলের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে ফরিদপুরের রেজাওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে চিকিৎসকেরা রোগীর সামান্য সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত জ্ঞান ফিরবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু এক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
মরিয়ম আক্তার সুরভীর দাবি, ঢাকার ন্যাশনাল কেয়ার হেলথ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা দেখে জানান, অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে থাকতে পারে।
আরাফাতের নানা জাকির হোসেন বলেন, ‘কার কাছে বিচার চাইব? আমার আদরের নাতি তো আর ফিরে আসবে না।’ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে আরাফাতকে দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রব শেখ জানান, শিশু আরাফাতের অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক আখতারুজ্জামান। অ্যানেসথেশিয়া দেন চিকিৎসক নিয়ামত উল্লাহ এবং সহকারী হিসেবে ছিলেন চিকিৎসক রকিবুল ইসলাম আকাশ। তিনি দাবি করেন, তাঁদের চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারে কোনো ভুল করেননি। শিশুটির আগে থেকেই হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র ছিল। এ কারণে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
রাজবাড়ী থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, তারা এ বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাননি।








