এস,কে পাল সমীর, পাংশা : রাজবাড়ীর পাংশায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর কবরস্থানে দুর্বৃত্তরা এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা যায়।
এতে সংরক্ষিত কবরস্থানের ২.৫ শতাংশ জমির সীমানা পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জানা যায়, তিন একর জমির উপর অবস্থিত তারাপুর ঈদগাহ ও গোরস্থান ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে এখানে প্রায় ২.৫ শতাংশ জায়গা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়, যেখানে বর্তমানে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী তারাপুর দাখিল মাদরাসা হেফজখানা ও মসজিদের মুয়াজ্জিন শহিদুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, “ভোর ৫টার দিকে আজান দেয়ার জন্য উঠে দেখি কবরস্থানে আগুন জ্বলছে। এরপর দ্রুত মসজিদের মাইকে গ্রামবাসীকে জানাই। সবাই এসে আগুন নেভাতে সহায়তা করেন।”
ঘটনার খবর পেয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, পাংশা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল গনি, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সজিব হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাগণ।
পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব সাবেক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীর বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে এখনো মেনে নিতে পারেনি, তাদেরই প্রজন্ম এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে বলে মনে করি। বিজয়ের মাসে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবী জানাই।”
বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি মো. সজিব হোসেন বলেন, “এ অগ্নিকাণ্ড কোন প্রাকৃতিক বা বৈদ্যুতিক কারণে ঘটেনি। এটি স্পষ্ট যে, কেউ আগুন লাগিয়েছে। আমরা কমিটির সদস্যরা বসে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিব।”
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মো. রিফাতুল হক বলেন, “সকালে খবর পাই বাহাদুরপুর ইউনিয়নে একটি কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত জায়গা ছিল সেটি আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এখানে এসে দেখি মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত কবরস্থানের যে সীমানা প্রাচীর (বেড়া) ছিল তা বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা দ্রুত উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
স্থানীয়দের অভিযোগ—ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিতপূর্বক গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।






