শহিদুল ইসলাম, কালুখালী: যেতে নাহি দিবো হায়,তবু যেতে দিতে হয়। কবির কবিতার এই চরনের চরম আকাংখা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে বিদায় নিলেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মানবিক ইউএনও খ্যাত মহুয়া আফরোজ। রবিবার দিনভর শিক্ষক,সাংবাদিক,ধর্মীয় নেতা,সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি,কৃষক,মজুর,আদিবাসীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা তাকে সংবর্ধনা দিয়ে ভালোবাসা জানিয়েছে। তবে কোন কোন সংবর্ধনাই তিনি কর্ম ফেলে গ্রহন করেননি।
২০২৪ সালের ৩ মার্চ মহুয়া আফরোজ কালুখালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।বাংলায় মাসটা ছিলো ফাল্গুনের ১৮ তারিখ। বাংলা ক্যালেন্ডারে ওই সময় বসন্ত বাতাস থাকার কথা হলেও বিকেলটা ছিল কনকনে শীত। শীত বাতাসের শেষ বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে প্রথম মতবিনিময়কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া আফরোজ বলেছিলেন,কালুখালীকে আমি নতুন করে সাজাবো, প্রেরনা আর উৎসাহ দিয়ে কর্মহীনদের কাজে লাগাবো। সকলকে মানবিক হতে শেখাবো। সেদিন সাংবাদিকগন প্রশ্ন করেছিলেন,কিভাবে তা করবেন ? কোন সদুত্তর না দিয়ে উনি বলেছিলেন,আজ নয়, দিনে দিনে বলবো। আজ বেশ শীত,আজ রাতে ছিন্নমুল মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করবো। সম্ভব হলো আপনারা থাকবেন।
সেই থেকেই শুরু হলো রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া আফরোজ এর কর্মযজ্ঞ, এই যজ্ঞ আর থামেনি।
কখন সকাল,কখন বিকেল,রাত কিংবা ছুটির দিন কিছুই বাঁধা হয়নি এই কর্ম পিপাসু নারীর। গভীর রাতেও প্রত্যন্ত গ্রাম খুঁজে অসহায় মানুষের কম্বল বিতরন,তাদের কর্মের খোঁজ নিতেন তিনি। শীত শেষে প্রকৃতিতে নতুন আমেজ। এসময় নতুন কর্ম সৃষ্টি করতেন। কখনো নদী ভাংগা মানুষের জন্য,কখনো কৃষকদের, কখনো স্কুল কলেজ,কখনো বাল্য বিবাহ রোধ। একটার পর একটা হাতে থাকতোই। তার দপ্তরে অসহায়,বৃদ্ধ,প্রতিবন্ধী ও কৃষিজীবি মানুষের সম্মান বেশি ছিলো।
কর্মপাগল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া আফরোজ এর শেষ কর্ম দিবস ৩০ নভেম্বর। দিনটিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ পৃথক ৩০টি সংবর্ধনার আয়োজন করে। তবে কর্ম ফেলে তিনি একটি সংবর্ধনাও গ্রহন করেননি। সকালে কালুখালীর চরাঞ্চলের ৬ স্কুলে তার পৃথক সংবর্ধনায় আয়োজন করে। তিনি হরিনবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চরাঞ্চলের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ বিতরন করেন। একই সাথে ৬ সংবর্ধনাও সম্পন্ন করেন।
দুপুরে মদাপুর ইউনিয়নবাসী তাকে আমন্ত্রন জানান। কিন্তু তাদেরকেও অফিসে ডেকে কাজের ফাঁকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ দেন। ৭ ইউনিয়ন,শিক্ষক,সাংবাদিক,অফিসার্স সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম। অফিসের কাজের ফাঁকেই সংবর্ধনা,কাজের ফাঁকে শুভেচ্ছা বিনিময়।
এভাবে শুরু থেকে শেষ সময়টুকু কাজের মধ্যদিয়ে বিদায় নিলেন কালুখালীর মানবিক ইউএনও খ্যাত মহুয়া আফরোজ।







