২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সোমবার

খাল পুনঃখননে ফিরছে স্বস্তি-ভাগ্য বদলের স্বপ্নে খোকসার কৃষকরা

পুলক সরকার, খোকসা : কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ও মোড়াগাছা ইউনিয়নের ২ টি খালের সাড়ে ১১ কিলোমিটার পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হওয়ায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দীর্ঘদিনের অবহেলায় নাব্যতা হারানো খোকসার খালগুলো আবারও ফিরে পেয়েছে প্রাণ। এতে যেমন বাড়ছে পানির প্রবাহ, তেমন কমছে কৃষকদের সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। ফলে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

 

খোকসা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, খোকসায় দেড় লাখ হেক্টর জমি রয়েছে, যার বেশিরভাগ জমি খালের পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল।

 

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শত বছরের পুরোনো বিলজানি খাল। যা এক সময় দখল আর দূষণে মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই চিত্র আর নেই, খাল খননে সেই খালে ফিরেছে প্রাণ। আর এতেই আবাদে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

 

কৃষক বদিউজ্জামান ও মানবেন্দ্র মজুমদার বলেন, আগে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য সেচ দিতে সমস্যা হতো, খাল শুকিয়ে চৌচির হয়ে যেত। এখন খালে পানি বাড়ছে। আমরা ফসল আবাদ করতে পারবো।

 

শুধু শিমুলিয়া খাল নয়, উপজেলার বেশিরভাগ খাল এখন খননের আওতায় এসেছে। খননযন্ত্রের শব্দে মুখর উপজেলার বিভিন্ন খাল। এসব খালে আগে বছরের পর বছর পলি জমে হারিয়ে ফেলেছিল স্বাভাবিক প্রবাহ। ফলে বর্ষা মৌসুমে দেখা দিত জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের পড়তে হতো সেচ সংকটে। বর্তমানে খালগুলো পুনঃখনন হওয়ায় পানি ধারণ ও প্রবাহ ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও খোকসা উপজেলা যুবদল নেতা শামিম হোসেন বলেন, আমরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। খাল খননের ফলে সবার উপকারে আসছে, বিশেষ করে কৃষকদের জলাবদ্ধতা ও পানি সংকটের সমাধান হচ্ছে। এখন এই খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার।

 

খনন কাজ শেষ হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি খরচও কমবে কৃষকদের। তাই খাল খনন অব্যাহত রাখার দাবি স্থানীয়দের। সচেতন মহল মনে করছে, প্রতি বছর যদি এই খাল খনন কার্যক্রম থাকে তাহলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

 

সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান খনন কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে খোকসার কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেবে। একই সঙ্গে কমবে জলাবদ্ধতা, বাড়বে খালের নাব্যতা এবং উপকৃত হবেন হাজারো কৃষক।

 

খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, উপজেলার বিদ্যমান খালের খনন কাজ চলছে পর্যায়ক্রমে সবগুলো খনন হবে। খাল খননের মাধ্যমে শত শত কৃষক উপকৃত হবেন।

 

খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, এই খালগুলো চালু হলে খোকসার বড় একটি অংশ চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। খাল খননে যাতে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম না হয় সেজন্য আমাদের মনিটরিং অব্যাহত আছে। খাল খনন কার্যক্রম চলমান থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

Scroll to Top