তৃণমূলের ভাবনা
কবি : কাজী আমিরুল ইসলাম
তৃণমূলের ভাবনা— দুর্নীতি চলবে না,
নেতারা খায় বেশি, তৃণমূল পায় না।
অনায্য অধিকার, তৃণমূল চায় না,
ন্যায্য অধিকার, চাইলেও পায় না ।
যুগে যুগে তৃণমূল, জেল-জুলুম খাটে,
নেতারা বলে শুধু, “ভালোবাসো বটে!”
এভাবেই দলটাকে, ভালোবেসে যাবে,
দলটাকে ভালবাসলে, দেশ ভালো হবে।
যুগে যুগে তৃণমূল, জীবন দিলো বটে,
নেতারা বিদেশে থাকে, সুখে- আয়েশে।
নেতাদের ছেলে-মেয়ে, বিদেশে থাকে,
তৃণমূলের ছেলে-মেয়ে, দেশে বসে কাঁদে।
জীবন দিয়ে তৃণমূল, দেশ করে মুক্ত,
নেতারা বিদেশে, নিরাপদে সুপ্ত।
মুক্ত দেশে এসে, নেতা হয় নেতা,
নেতাদের সন্তানেরাও, হয়ে যায় নেতা।
তৃণমূল সারা জীবন, করে শুধু কষ্ট,
এভাবেই তাদের, জীবন হয় নষ্ট।
তৃণমূলে ভর করে, নেতা হয় এমপি-মন্ত্রী,
গাড়ি-বাড়ি হয় তার, জেনারেশন এমপি-মন্ত্রী।
তৃণমূলের ঘামে গড়ে, নেতার প্রাসাদ,
তৃণমূলের জোটে শুধু, জীবনের অবসাদ ।
ভোটের সময় এসে বলে, “তুমি আপনজন,”
ভোট ফুরালেই ভুলে যায়, সেই আপনজন।
নেতা বলে তৃণমূল, তোমরাই আমরা,
তোমরাই দলের, যেন প্রাণ ভোমরা ।
তবে কেন টাকায়, বিক্রি হও তোমরা?
দলের মধ্যে করো, শুধু দলাদলি ।
এই ভাই, ওই ভাই, কর বলাবলি,
চলো দলের মধ্যে নাহি,দলবাজি করি ।
দেশটাকে ভালোবেসে, একসাথে চলি,
চলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, একসাথে চলি ।
সৎ হলে তৃণমূল, নেতার উপায় নাই,
নেতা অসৎ হলে, চলো নেতা পাল্টাই ।
তৃণমূল, তৃণমূল, সৎ থেকো ভাই,
নেতা অসৎ হলে, চলো নেতা পাল্টাই ।
তৃণমূলের হাতে থাকে, পতাকার ভার,
নেতাদের হাতে থাকে, ক্ষমতার দ্বার।
রাজপথে তৃণমূল, রক্ত ঝরায়,
নেতা বলে বেশ বেশ, করেছো লড়াই ।
তৃণমূলের প্রশ্ন —কত আর সহি?
আমরা তৃণমূল, বদলাবো নহি ।
নেতারা বদলাবে, মুখে শুধু বলে,
আদতে নীতিটা, আগেরটাই চলে।
তৃণমূলের অধিকার—তৃণমূলেরই দান,
নেতা হবে জনগণের, জনগণের প্রাণ ।
ক্ষমতা নয়—শুধু সেবা থাকুক মনে,
তৃণমূলের হক কথা, নেতা যেনো শুনে ।
তৃণমূল চায়না, বেশি কিছু তাই,
শান্তিতে সম্মানে, জীবন কাটাই ।
চায় তারা অধিকার, অসম্মানে নাই,
ন্যায্য অধিকার, শুধু ন্যায্যতা চাই ।
(বি:দ্র : কবিতাটি বিশেষ কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকে ছোট করার উদ্দেশ্যে লেখা নয়, তারপরও যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।)







