১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | মঙ্গলবার

রাজবাড়ী সরকারি কলেজে প্রভাষককে কলার ধরে টেনে মারধর, অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক

রাজবাড়ী ভয়েস ডট কম : রাজবাড়ী সরকারি কলেজে এক প্রভাষককে কলার ধরে টেনে নিচে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের এক সহযোগী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার একটি ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মারধরের অংশবিশেষ দেখা যায়।

ভুক্তভোগী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এ কে এম আজাদুর রহমান জানান, “দুপুরে পরীক্ষার ডিউটি চলাকালে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কুতুব উদ্দিনকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আমির স্যার ধাক্কা দেন। কুতুব স্যার বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানাতে অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমি তার সঙ্গে ছিলাম। অভিযোগের প্রিন্ট নেওয়ার সময় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল এসে আমাকে কলার ধরে টেনে নিচে নিয়ে যায় এবং কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে আমার ঘাড়, চোখ ও মুখে আঘাত লাগে। পরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই এবং মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক কুতুব উদ্দিন বলেন, “পরীক্ষার ডিউটির সময় ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আমির স্যার আমাকে ধাক্কা দেন। আমি অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মোস্তফা কামাল স্যার এসে আজাদুর রহমানকে ডেকে নিয়ে কিল-ঘুষি মারেন। ঠেকাতে গেলে বাংলা বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকেও ঘুষি দেন। পরে আমরা আজাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, ওর ঘাড়-মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।”

অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোস্তফা কামাল, যিনি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকও, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা একজন শিক্ষককে হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি জানতেই আমি তাদের কাছে যাই। তখন আজাদুর আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তাই কলার ধরেছি—কিন্তু মারধর করিনি।”

কোন শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তার বাড়ি খুলনা, এখানে চাকরি করে।” তবে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ইকরামুল করিম বলেন, “আমি শুনেছি দুই শিক্ষকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না।”

এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলেছেন, “একজন শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে কলার ধরে টেনে মারধর করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদাহানিকর ঘটনা।”

Scroll to Top