খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি কবরস্থানের জমিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের নামকরণ ও কমিটি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে খোকসা উপজেলা সদরের মাঠপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় খোকসা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় অর্ধশত বছর আগে ওয়াকফ করা প্রায় দুই একর জমিতে যামিনী-কামিনী কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়ের অর্থে কেনা জমিতে প্রায় ২০ বছর আগে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদ’। অপরদিকে মসজিদের মুসল্লিদের গঠিত বর্তমান কমিটি মসজিদটির নাম ‘মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিলুপ্ত কমিটির লোকজন সম্প্রতি মসজিদের প্রধান ফটকে কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদ’ নামের একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। গত দুই শুক্রবার জুমার নামাজের পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। হামলা-পাল্টা হামলায় আহতদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আহত আফজাল মন্ডল (৫৫), তাজু মন্ডলের ছেলে এবং সোহরাব (৪৫), আমানত আলীর ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত হালিম রেজা উজ্জল (৩৬), আবুল কালামের ছেলে, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাবেক কমিটির নেতারা মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কয়েক লাখ টাকা সহায়তা নিয়ে হিসাব না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। বারবার হিসাব চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদটির নাম ‘মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা বর্তমান কমিটির নৈতিক দায়িত্ব। সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মসজিদের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। হঠাৎ করেই তিনি মসজিদে খোকসা মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ লেখা সাইনবোর্ড দেখতে পান। তার দাবি, কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেদের সিদ্ধান্তে এ নাম পরিবর্তন করেছেন।
অন্যদিকে আবুল কালাম সুমন দাবি করেন, তার দাদি যামিনী ও কামিনী বিবির ওয়াকফ করা জমিতে কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কবরস্থানের আয়ের অর্থে কেনা জমিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তাই মসজিদটির নাম ‘যামিনী-কামিনী কবরস্থান জামে মসজিদ’ হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম ছরোয়ার বলেন, মুসল্লিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু সাবেক কমিটির লোকজন বর্তমান কমিটিকে না জানিয়ে ‘কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মসজিদের কর্তৃত্ব ও নামকরণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।






