শেখ মিলন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার খোকসায় হৃদয় হোসেন (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মকবুল হোসেন ও তাঁর ভাই বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় একটি সাইকেল মেরামতের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
আহত হৃদয় হোসেন বেতবাড়িয়া গ্রামের কবিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হৃদয় ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
হৃদয়ের অভিযোগ, তিনি একটি দোকানের ওপর বসে ছিলেন। এ সময় মকবুল হোসেন ও তাঁর ভাই বিল্লাল হোসেন টিউবওয়েলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তাঁর ডান কানের লতি ফেটে যায়। একপর্যায়ে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং সঙ্গে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত মকবুল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছরের ছেলে শেফায়েত বাড়ি ফেরার পথে হৃদয়ের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁর দাবি, হৃদয় তাঁর ছেলের প্যান্ট খুলে তাকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ছেলের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি হৃদয়কে আঘাত করেন। এ সময় হৃদয়ের হাতে থাকা একটি ছুরি দিয়ে তাঁর ডান হাতে আঘাত করা হয় বলেও দাবি করেন মকবুল।
মকবুলের ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা বিএনপি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
অন্যদিকে হৃদয়ের চাচা, যিনি বিজিবিতে কর্মরত, মোঃ জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে হৃদয়ের মা বলেন গ্রামের মধ্যে একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন মুকুল বিল্লালের ভাইরা মিলে গ্রামের মধ্যে যা করে যাচ্ছে তাতে ভদ্র পরিবারের বসবাস অযোগ্য। আমার ছেলেটির উপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে আমি এর বিচারের দাবি জানাই।
তবে ঘটনাস্থলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই শিশু হালখাতার টাকা পরিশোধ করে বাড়ি ফিরছিল। তার হাতে একটি মিষ্টির প্যাকেট ছিল। হৃদয় ওই মিষ্টি চাইলে শিশুটি দিতে রাজি হয়নি। এ সময় তার হাফপ্যান্ট ধরে টান দেওয়ায় এক পাশ খুলে যায়। এর বাইরে অন্য কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ বিষয়ে খোকসা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








